জীর্ন মন্দিরের জার্নাল -- ১





রানির বাজার-- একটি গ্রামের নাম।
কিন্তু নামটাই কেমন মন উদাস কর। কার রানি ? কোথাকার, বা কবেকার?
তিনি চেচুয়া-বরদার রাজা শোভা সিংহের রানি। তাঁর নামেই গ্রামের নাম।
বর্তমান মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানায়।
গ্রামীণ হস্তশিল্পের উন্নতি ঘটিয়ে হাট -বাজারের পত্তন করেছিলেন শোভা।রাজধানী বরদার লাগোয়া বাজারের নাম করেছিলেন -- রানির বাজার।
Add caption


কাঁসা-পিতল-রেশম ইত্যাদি শিল্পের সুবাদে বহু ধনি পরিবারের বসত গড়ে উঠেছিল গ্রামটিতে। অনেকগুলি মন্দির গড়ে উঠেছিল তাদের হাতে। শীতলাদেবীর একটি মন্দির গড়েছিলেন চৌধুরী পরিবার। তাঁদের গৃহদেবতা শীতলা। 
পরিবার সম্পন্ন।একবার ভয়াবহ ডাকাতি হয় চৌধুরীদের বাড়িতে। সেকারনে, ভদ্রাসন ত্যাগ করে উঠে যান তাঁরা। দেবীর বিগ্রহ গ্রামবাসীদের হেফাজতে একটি সাধারণ মন্দিরে পূজিত হয়ে চলেছেন।
পঞ্চ রত্ন রীতির মন্দিরটি পরিত্যক্ত। জীর্ন হতে হতে এখন কেবল গর্ভগৃহের সামনের দে`য়ালটুকু ছাড়া আর কিছু টিকে নাই।
অন্যান্য দেওয়াল, সামনের ত্রিখিলান দ্বারপথ, ইমারতি রীতির কারুকাজ করা থাম, দরুণ রীতির খিলান কিছুই আর নাই আজ। টেরাকোটার ফলক, দ্বারবর্তিনী মূর্তি, পঙ্খের কারুকাজ সবই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। স-ব-ই। 
হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আজ আর কিছু নাই.।
(
মেদিনীপুর শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা " সব্যসাচী "তে এইসব মন্দিরের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নিয়মিত ছাপা হয়ে চলেছে।)


Comments